রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

এক বছর পর এমপির বন্দিদশার অবসান ঘটলো

খুলনা অফিস : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আজিজের বাড়ির চারপাশে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হকের দেয়া উঁচু প্রাচীর ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রথমে প্রাচীরের একাংশ ভাঙা হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে পুরো প্রাচীর ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে আবদুল আজিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের এক বছরের বন্দিদশার অবসান ঘটলো। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। অবশেষে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এই প্রাচীর ভাঙ্গা হলো।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফকরুল হাসান রোববার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে সরল গ্রামে ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজের বাড়িতে যান। তিনি আবদুল আজিজের জমির কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এরপর দুপুর একটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তার সঙ্গে যাওয়া শ্রমিক এবং আবদুল আজিজের পরিবারের সদস্যরা বড় বড় হাতুড়ি দিয়ে প্রাচীর ভাঙার কাজ শুরু করেন।
প্রথমে প্রাচীর ভেঙ্গে আজিজের বাড়ির দুই পাশ থেকে রাস্তায় বের হওয়ার পথ তৈরী করা হয়। দুপুর দেড়টার মধ্যে এই কাজ শেষ হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে বুলডোজার দিয়ে ৫০ শতক জমির ওপর তৈরী পুরো প্রাচীর ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাচীর ভাঙ্গায় গ্রামের শত শত মানুষ সেখানে ভিড় জমান। তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ গোলদার জানান, গত বছর জানুয়ারিতে তার ২০ শতক জমির পাশে সংসদ সদস্যের ছেলে শেখ মনিরুল ইসলাম ৫০ শতক জমি রেজিস্ট্রি বায়না করে নেয়। এরপর ওই জমিসহ তার জমির চারপাশে কোথাও ১০ ফুট আবার কোথাও ১৫ ফুট উঁচু প্রাচীর তৈরী করে। এর ফলে তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তাদেরকে প্রাচীরের দুই পাশে মই লাগিয়ে প্রাচীর টপকে যাওয়া-আসা করতে হতো। এছাড়া বাড়ির নারী ও শিশুরা প্রাচীরের নিচ দিয়ে তৈরী করা গর্তের মধ্য দিয়ে যাওয়া-আসা করতো। দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুফল পাননি। অবশেষে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তারা বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেন।
আবদুল আজিজের ছেলে সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্য ও তার ছেলে প্রাচীর দিয়ে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বাড়ি থেকে বের হতে গেলে মই দিয়ে প্রাচীর টপকাতে হতো।
আবদুল আজিজের ছেলে মোকলেসুর রহমান মুসা জানান, তার ছোট বাচ্চা প্রতিদিন প্রাচীরের নিচের গর্ত দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে হতো। কয়েকদিন তার আঘাতও লেগেছে।
পাইকগাছা থানার ওসি মারুফ আহমেদ বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এমপি পুত্রের দেয়া প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী আজিজ গোলদারের নিযুক্ত শ্রমিকরা প্রাচীর ভেঙ্গে বাড়িতে প্রবেশ করার পথ বের করেছেন। এসময় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ উপস্থিত ছিলো।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফকরুল হাসান জানান, আবদুল আজিজের বাড়ির চারপাশে প্রাচীর দিয়ে পরিবারটিকে একপ্রকার অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সেই প্রাচীর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এখন পরিবারটি স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে যাওয়া-আসা করতে পারবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবরুদ্ধ প্রাচীর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বিষয়টি নজরদারী করা হয়। যে কারণে রোববার প্রাচীর ভেঙ্গে দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ